বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০

ব্যক্তিগত জীবনে সিনিয়র আপুর প্রেমে পড়েছিলেন।


রিমন মাহফুজ (ছবি সংগৃহীত) 


পাশের বাসার মাস্টার্সপড়ুয়া তরুণীকে উচ্চ শব্দে আইয়ুব বাচ্চুর গান বাজিয়ে শুনিয়ে ‘ইমপ্রেস’ করার চেষ্টা করছে সদ্য এসএসসি দেওয়া এক কিশোর। এরপর সিনিয়র সেই ‘ক্রাশ’কে পটানোর (নাটকের ভাষায়) আরও নানা চেষ্টা। এমন একটি ভিডিও ক্লিপ সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। করোনার এই সময়ে সেই ক্লিপে মজেছেন লাখো দর্শক। অনেকেই ক্লিপ দেখে খুঁজে বের করেছেন মূল নাটকটি—‘ত্রিকোণমিতি’।

মতিন সাগরের পরিচালনায় ২০০৯ সালে প্রথম রিলিজ হয় ‘ত্রিকোণমিতি’। নাটকটি ইউটিউবে আপলোড হয় ২০১৮ সালে। নাটকটির ‘ভিউ’ সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল কয়েক হাজার। এখন পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। ফেসবুকসহ নানা প্ল্যাটফর্ম থেকে নাটকটি দেখা হয়েছে আরও অসংখ্যবার।

ইউটিউবে দর্শকদের করা মন্তব্য অনুযায়ী, অনেকের মন কেড়েছে সিনিয়র আপুর প্রেমে পড়া সেই ‘কিশোর’ প্রেমিক। অনেকের কৌতূহল, কে এই কিশোর অভিনেতা? আর কোনো নাটক নেই তার? এখন কীই–বা করেন তিনি?

এসব নিয়েই কথা হলো তখনকার ‘কিশোর’ এখনকার তরুণ রিমন মাহফুজের সঙ্গে।

কী অবস্থা রিমন, কেমন আছেন?

করোনার এই দুঃসময়ে আলহামদুলিল্লাহ, এখনো ভালো আছি।

হঠাৎ করে আপনার অভিনীত একটি নাটক রীতিমতো ভাইরাল...

হ্যাঁ। কিছুদিন আগে মারজুক রাসেল ভাই তাঁর ফেসবুক থেকে নাটকটি আপলোড করেন। এরপর সেখান থেকে নানা জন নাটকটির নানা অংশ কেটে ক্লিপ তৈরি করে ছড়িয়ে দেন। সেখান থেকে আমার আর মৌটুসী (বিশ্বাস) আপুর অংশ ভাইরাল হয়েছে।

এত দিন পর নাটকটি ভাইরাল হওয়ার কারণ কী মনে হয়?

আসলে কিশোর বয়সে আমরা অনেকেই সিনিয়র আপুদের প্রেমে পড়ি। কিন্তু বলা হয় না। আবার বলা হলেও অন্য কোনো সিনিয়র ভাই এসে মেয়েটিকে বিয়ে করে নিয়ে যায়। এমন ত্রিভুজ প্রেমের গল্প নিয়ে নাটকটি। এই নাটক দেখে হয়তো অনেকেই তাঁদের অতীতে ফিরে গেছেন। তা ছাড়া নাটকটি আজ থেকে ১০ বছর আগের। সেই সময়টিও ধরা আছে নাটকটিতে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, মানুষ নস্টালজিক হয়ে নাটকটি এত ভালোবেসে ফেলেছে।

নাটকটি কবে করেছিলেন?

আমি তখন এসএসসি পাস করে সবে নটর ডেম কলেজে ভর্তি হয়েছি। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। এরপর একটা ঝামেলার কারণে নাটকটির প্রচার আটকে যায়। পরে এটি কবে রিলিজ হয়, তাও জানি না। বিষয়টি ভুলেও গিয়েছিলাম। ২০১৮ সালের দিকে নাটকটি ইউটিউবে দেখতে পাই।

আপনাকে আর কোনো নাটকে পাওয়া যায়নি...

‘ত্রিকোণমিতি’ আমার প্রথম ও শেষ নাটক। অবশ্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চে অনেক কাজ করা হয়েছে।

টেলিভিশন নাটকের প্রতি আর আগ্রহী হলেন না কেন? বিশেষ কোনো কারণ ছিল?

কারণ তো ছিলই। প্রথমত, নাটকটির প্রচার নিয়ে জটিলতা। সম্ভবত প্রযোজক ও পরিচালকের মধ্যে আর্থিক কোনো দ্বন্দ্বের কারণে নাটকটি ঠিক সময়ে আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি নাটকটি কোনো চ্যানেলে দেখানো হয়েছে কি না, তাও জানি না। দেখালেও কবে, জানা হয়নি। কয়েকবার পরিচালক, সহশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেও এর অগ্রগতি কিছু জানতে পাইনি। ছোট বয়সে আগ্রহ নিয়ে কাজটি করেছিলাম। তাই পুরো বিষয়টায় কষ্ট পেয়েছিলাম। এরপর তো কলেজ, ভার্সিটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। আমি যে কোনো নাটকে অভিনয় করেছি, তেমন কেউ জানত না। নিজেই ভুলে গিয়েছিলাম।

তার মানে আপনাকে নিয়ে হঠাৎ এই যে এত আগ্রহ, সবার মনোযোগ, এসব আপনার কাছে নতুন?

একদম তাই। গত দুই সপ্তাহে আমার ফেসবুকে কয়েক হাজার রিকোয়েস্ট এসেছে। অসংখ্য মেসেজ আসছে। এতটা সামাল দেওয়ার অভ্যাস আমার নেই। বাধ্য হয়ে ফলোয়ারদের জন্য মেসেজ অপশন বন্ধ করে দিয়েছি। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লোকজনকে রিকোয়েস্ট না দেওয়ার অনুরোধ করেছি। আর আমার আগে খোলা একটি পেজ আবার চালু করেছি।

হঠাৎ তারকা হওয়ার অনুভূতি কেমন?

আসলে আমি তো তারকা না। ওই সময় একটা কাজ করেছিলাম, সেটারও কোনো রেসপন্স ছিল না। আমার আর কোনো কাজও নেই। তবে এটা ঠিক, লোকজনের বাড়তি মনোযোগ, ভালোবাসা পেয়ে এখন একটু ভালোই লাগছে। সেটা উপভোগ করছি।

এত দিন পর এত ভালোবাসা পেয়ে মনে হচ্ছে না, টেলিভিশনের কাজটা চালিয়ে যাওয়াই ভালো ছিল?

সেভাবে মনে হচ্ছে না। আমি হয়তো এত দিন কাজ করলে ঠিকভাবে পড়ার সময় বের করতে পারতাম না। এর মধ্যে আমি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ করেছি। সর্বশেষ করোনার কারণে লকডাউনের আগে আগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে এমবিএ করে ফেলেছি।

কিন্তু এত দিনে একবারও মনে হয়নি মিডিয়ায় কাজ করি?

মনে একেবারে হয়নি, তা না। তবে কাউকে তো এর আগে বলতেও পারছিলাম না যে আমি এর আগে কাজ করেছি। যেহেতু কলেজ ও ভার্সিটি দুই জায়গাতেই মঞ্চে কাজ করেছি, তাই এখন ভালো কাজের অফার পেলে আবার মিডিয়ায় ফিরতে পারি।

বাস্তবে কখনো ‘ত্রিকোণমিতি’র মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন?

(হাসি) বেশ কয়েকবারই পড়েছি। তবে সিনিয়র কাউকে নিয়ে নয়। দেখা গেছে, আমি কাউকে পছন্দ করেছি, অন্য কেউও তাকে পছন্দ করেছে। এ রকম তো হয়ই।

ব্যক্তিগত জীবনে কখনো সিনিয়র কারও প্রেমে পড়েননি?

(আবার হাসি) হ্যাঁ, ভার্সিটিতে এক আপুর প্রতি ভালো লাগা ছিল। ব্র্যাকের ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরামের সিনিয়র ওই আপুকে বিষয়টি জানিয়েও ছিলাম। কিন্তু ওটা ছিল শুধুই ভালো লাগা। নাটকের মতো আপুকে পটানোর জন্য ‘ড্রামা’ করিনি।

পরিবারে কে কে আছেন?

আমরা তিন ভাই, এক বোন। আর মা আছেন।

করোনার দিনগুলোয় কী করছেন? পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?

আপাতত বাসায় শুয়ে-বসে সময় কাটছে। ভালো ভালো মুভি, নাটক দেখছি। আপনারাও এভাবে সময় কাটাতে পারেন। বাংলা অনেক ভালো নাটক আছে। ‘ত্রিকোণমিতি’র মতো অনেক নাটক, যেগুলো আগে এত জনপ্রিয়তা পায়নি, চাইলে সে রকম নাটক খুঁজে বের করে দেখতে পারেন।

শেয়ার করুন

0 coment rios: